সংজ্ঞা
(ক) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই বিধিমালায়—
(১) “অধিদপ্তর” অর্থ আইনের ধারা ৩ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থাপিত পরিবেশ অধিদপ্তর;
(২) “অন্যান্য কর্তৃপক্ষ” অর্থ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনসহ সরকার ঘোষিত অন্যান্য শিল্প এলাকা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন
• কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অনুরূপ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ;
(৩) “আইন” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন);
(৪) “উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (EPR)” অর্থ উৎপাদনকারী বা আমদানিকারকের পণ্য ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহারের পর উক্ত পণ্যের মাধ্যমে সৃষ্ট বর্জ্য নিজ দায়িত্বে বা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ অথবা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহিত যৌথভাবে গৃহীত পরিবেশসম্মত যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং ভোক্তা পর্যায়ে সৃষ্ট বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে উৎপাদনকারী কর্তৃক ভোক্তাকে প্রণোদনা প্রদান, সৃষ্ট বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পুনঃপ্রক্রিয়া এবং উহার সঠিক ব্যবস্থাপনা;
(৫) “কমিটি” অর্থ বিধি ৩ এ উল্লিখিত জাতীয় সমন্বয় কমিটি;
(৬) “কঠিন বর্জ্য” অর্থ তফসিলে বর্ণিত বর্জ্যসহ সকল বাতিল, অবাঞ্ছিত, পরিত্যক্ত, উদ্বৃত্ত বস্তু, সামগ্রী বা উপাদান যাহা ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য বা বর্জ্য;
(৭) “কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা” অর্থ জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত বিবেচনায় উত্তমনীতি অনুসারে কঠিন বর্জ্য উৎসে হ্রাসকরণ, পৃথকীকরণ, সংগ্রহ, পুনরুদ্ধার, পুনর্ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ, স্থানান্তর, পরিবহন, প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিত্যজন (Disposal) সংক্রান্ত কার্যাবলি;
(৮) “কম্পোস্টিং” অর্থ অনুজীব, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা জৈব বস্তু নিয়ন্ত্রিতভাবে পচাইয়া জৈব সার উৎপাদন;
(৯) “চোয়ানি (Leachate)” অর্থ বর্জ্য পচনকালে উক্ত বর্জ্য হইতে চোয়াইয়া নির্গত দূষিত তরল যাহাতে দ্রবীভূত ও ভাসমান বা নিলম্বিত (Suspended) পদার্থ থাকে;
(১০) “ছক” অর্থ এই বিধিমালার ছক;
(১১) “তফসিল” অর্থ এই বিধিমালার তফসিল;
(১২) “প্রতিষ্ঠান” অর্থ এই বিধিমালায় বর্ণিত ব্যক্তি বা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ব্যতীত সংশ্লিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি সংগঠন;
(১৩) “পরিত্যজন (Disposal)” অর্থ ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠস্থ পানি এবং পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণ না ঘটিতে পারে তদরূপভাবে কঠিন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে পরিত্যাগকরণ;
(১৪) “পরিবহন” অর্থ কঠিন বর্জ্য একস্থান হইতে অন্যস্থানে স্থানান্তরের স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি যাহাতে স্থানান্তরকালে দুর্গন্ধ না ছড়ায়, পথিমধ্যে বর্জ্যের কোনো অংশ পড়িয়া না যায়, দৃষ্টিকটু দৃশ্যের অবতারণা না হয় এবং মশা, মাছি, পোকা, মাকড়, ইঁদুর, ছুঁচো ও কীটপতঙ্গ প্রবেশ করিতে না পারে;
(১৫) “পরিশোধন (Treatment)” অর্থ জৈব, রাসায়নিক বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক বা শিল্প বর্জ্যের দূষণকারী উপাদান অপসারণের মাধ্যমে জীবজগত ও পরিবেশের উপর সম্ভাব্য ক্ষতি দূরীকরণ;
(১৬) “পুনঃচক্রায়ন (Recycle)” অর্থ বর্জ্যের পৃথককৃত অপচনশীল (Non- Biodegradable) অংশ বা অংশবিশেষকে পুনরায় ব্যবহারের লক্ষ্যে নূতন দ্রব্য হিসাবে রূপান্তর করা;
(১৭) “পুনর্ব্যবহার (Reuse)” অর্থ বর্জ্যের পৃথককৃত অপচনশীল (Non- Biodegradable) অংশ বা অংশবিশেষকে পুনরায় ব্যবহার করা;
(১৮) “পুনরুদ্ধার (Recover)” অর্থ পণ্য সামগ্রীর পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন, পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ এবং শক্তি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ও টেকসই ব্যবহার;
(১৯) “প্রক্রিয়াকরণ (Processing)” অর্থ কঠিন বর্জ্য পরিবেশসম্মত উপায়ে পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন, কম্পোস্টিং, বায়ো-গ্যাস জেনারেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা;
(২০) “পৃথকীকরণ (Segregation)” অর্থ কঠিন বর্জ্য বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে পৃথক করা;
(২১) “বর্জ্য” অর্থ আইনের ধারা ২ এর দফা (ঠ) এ সংজ্ঞায়িত বর্জ্য;
(২২) “মহাপরিচালক” অর্থ আইনের ধারা ২ এর দফা (ড) এ সংজ্ঞায়িত মহাপরিচালক;
(২৩) “সরকার” অর্থ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়;
(২৪) “স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থান” অর্থ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বর্জ্য চূড়ান্তভাবে পরিত্যজন বা জমা করিবার নিরাপদ স্থান;
(২৫) “স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ” অর্থ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ; এবং
(২৬) “হ্রাসকরণ (Reduce)” অর্থ গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এককালীন ব্যবহার্য পণ্য ক্রয় ও ব্যবহার সীমিতকরণ, পুনঃব্যবহার বা পুনঃচক্রায়নযোগ্য পণ্যের অধিক ব্যবহারসহ অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে পণ্যের কাঁচামালের ব্যবহার এবং বর্জ্য সৃষ্টি হ্রাসকরণ।
(খ) এই বিধিমালায় ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা প্রদান করা হয় নাই সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি আইনে যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।
তথ্যসূত্র: কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ — এস, আর, ও, নং ৩৫৬-আইন/২০২১, তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০২১; বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, গেজেট PDF-এর পৃষ্ঠা ১। মূল গেজেট (PDF)। হালনাগাদ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬।
এই বিধিতে উল্লিখিত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা: ধারা ২ · ধারা ৩