অধিকাল কর্মের জন্য অতিরিক্ত ভাতা
আইনের টেক্সট
১০৮। (১) যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দিন বা সপ্তাহে এই আইনের অধীন নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি অধিকাল কাজের জন্য তাহার মূল মজুরী ও মহার্ঘভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা পাইবেন।
১[ (২) ঠিকা-হার (পিস রেট) ভিত্তিতে মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমিকগণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]
(৩) এই ধারার বিধান পালন নিশ্চিত করার লক্ষে সরকার কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রক্ষণীয় রেজিস্টার বিধিদ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
সংশোধনী টীকা (১)
- উপ-ধারা (২) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৮ নং আইন) এর ১৫ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ১০৮ — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।
সংশ্লিষ্ট বিধি
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
অধিকাল ভাতার সাধারণ হার হিসাব করিবার পদ্ধতি
(১) মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে ভিন্নরূপ কোন চুক্তির অবর্তমানে ধারা ১০৮ মোতাবেক শ্রমিকের অধিকাল কর্মের জন্য প্রদেয় ঘন্টাভিত্তিক মজুরির সাধারণ হার নিম্নবর্ণিতভাবে হিসাব করিতে হইবে, যথা :-
(ক) দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার দৈনিক মজুরির ১/৮ অংশ ;
(খ) সাপ্তাহিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার সাপ্তাহিক মজুরির ১/৪৮ অংশ ; এবং
(গ) মাসিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার মাসিক মজুরির ১/২০৮ অংশ।
টীকা ।- ৫২ ÷১২ x ৪৮ ঘন্টা = ২০৮ ঘন্টায় একটি মাস হইবে। ঘন্টাপ্রতি অধিকাল ভাতার হার = মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) x ২ x ওভারটাইম ঘন্টা / ২০৮ ঘন্টা।
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক দ্বারা অধিকাল কাজ করানো হইলে উক্ত অতিরিক্ত কাজের সময় উল্লেখ করিয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক বা তৎকর্তৃক প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি শ্রমিককে প্রদত্ত কার্ড বা স্লিপে স্বাক্ষর করিয়া কাজ শেষে শ্রমিককে প্রদান করিবেন।
(৩) কোন প্রতিষ্ঠানে মাসিক বা সাপ্তাহিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিক অথবা ঠিকা কাজে বা চুক্তিভিত্তিক বা পিস-রেট হিসাবে নিযুক্ত কোন শ্রমিকের জন্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা যাইবে না যাহাতে ধারা ১০০ এর লংঘন হয়।
(৪) অধিকাল কাজ করাইবার হিসাব ফরম-৩৪ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
দৈনিক কর্মঘন্টা
(১) অন্যত্র ভিন্নতর যাহাই কিছু থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক কোন শ্রমিকের দৈনিক কর্মঘন্টা হইবে আহার এবং বিশ্রামের বিরতি ব্যতীত ৮ (আট) ঘন্টা :
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান মোতাবেক অধিকাল ভাতা প্রদান সাপেক্ষে শ্রমিককে দিনে ১০ (দশ) ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করানো যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিকের সম্মতি থাকিতে হইবে এবং অধিকাল কাজ আরম্ভ হইবার কমপক্ষে দুই ঘন্টা পূর্বে তাহাকে অবহিত করিতে হইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মঘন্টা এবং অতিরিক্ত কাজ ও অধিকাল ভাতার বিষয়ে যদি শ্রমিকের জন্য অধিকতর সুবিধাজনক কোন চুক্তি বা নিষ্পত্তি বা প্রথা বিদ্যমান থাকে তাহা হইলে উহা অব্যাহত থাকিবে।
(২) নির্মাণ, রি-রোলিং, ষ্টিল মিল্স, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এবং বিধি ৬৮-তে উল্লিখিত বিপজ্জনক কাজসমূহে কর্মরত শ্রমিকদেরকে প্রতি দুই ঘন্টা পর পর আধাঘন্টার বিশ্রাম বিরতি প্রদান না করিয়া কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না বা তাহার দ্বারা কাজ করানো যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, মালিক ধারা ১০১ (ঘ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্তরূপ কোন বিশ্রাম বিরতির জন্য তাহার মজুরি হইতে কোন কর্তন করিতে পারিবে না।
(৩) মালিক কর্তৃক উপ-বিধি (২)-তে উল্লিখিত শিল্প ও কাজসমূহে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক ওভারটাইমসহ ১০ (দশ) ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করানো যাইবে না।
বিধি ৯৯ এর (ক) উপ-বিধি (২) এ উল্লিখিত ‘প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর আধাঘণ্টার’ শব্দসমূহের পরিবর্তে ‘প্রতি এক ঘণ্টা পর পর পনেরো মিনিটের’ শব্দসমূহ প্রতিস্থাপিত হইবে; (খ) উপ-বিধি (৩) এর ‘ওভারটাইমসহ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘অধিকালসহ (ওভারটাইম)’ প্রতিস্থাপিত হইবে;
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি
বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
- হিসাব
- OT ঘণ্টাপ্রতি হার = (মাসিক মূল মজুরি + মহার্ঘ ভাতা + এডহক) ÷ ২০৮ × ২ (বিধি ১০২)। RMG-তে সাধারণত শুধু basic ধরা হয়।
- উদাহরণ
- Basic ৮,৪০০ টাকা হলে OT rate = ৮,৪০০ ÷ ২০৮ × ২ = ৮০.৭৭ টাকা/ঘণ্টা। মাসে ৪০ ঘণ্টা OT = ৮,৪০০ × ২ × ৪০ ÷ ২০৮ = ৩,২৩০.৭৭ টাকা।
- করণীয়
- OT-র আগে শ্রমিকের সম্মতি ও কমপক্ষে ২ ঘণ্টা আগে নোটিশ (বিধি ৯৯)। Pay slip-এ OT ঘণ্টা ও হার দেখান।
- সতর্কতা
- Piece-rate শ্রমিকের ক্ষেত্রে ১০৮(১) প্রযোজ্য নয় (১০৮(২)); তবে piece rate এমন হতে হবে যাতে ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত হয়, এবং buyer code আলাদা দাবি করতে পারে।
নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
দুই আইনেই OT = (মূল মজুরি + মহার্ঘ ভাতা + এডহক) এর সাধারণ হারের দ্বিগুণ (EPZ ধারা ৪৫)। BLA ১০৮(২): পিস রেট শ্রমিকের ক্ষেত্রে ১০৮(১) প্রযোজ্য নয়। EPZ আইনের ধারা ৪৫-এ এই বাদ নেই, তবে EPZ বিধিমালার বিধি ১০৮(৩)-এ একই কথা আছে। দুই বিধিমালাতেই ঘণ্টাপ্রতি হার = মাসিক (মূল + মহার্ঘ + এডহক) × ২ ÷ ২০৮।
EPZ ধারা ৪৫ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ১০৮ · অধিকাল কর্মের জন্য অতিরিক্ত ভাতা
১০৮। (১) যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দিন বা সপ্তাহে এই আইনের অধীন নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি অধিকাল কাজের জন্য তাহার মূল মজুরী ও মহার্ঘভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা পাইবেন।
১[ (২) ঠিকা-হার (পিস রেট) ভিত্তিতে মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমিকগণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]
(৩) এই ধারার বিধান পালন নিশ্চিত করার লক্ষে সরকার কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রক্ষণীয় রেজিস্টার বিধিদ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
EPZ ধারা ৪৫ · অধিকাল কর্মের জন্য অতিরিক্ত ভাতা
৪৫। যেক্ষেত্রে কোনো শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো দিন বা সপ্তাহে এই আইনের অধীন নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, সেই ক্ষেত্রে তিনি অধিকাল কাজের জন্য তাহার মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি, যদি থাকে, এর সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা পাইবেন।