RMG Code — Rules for a Better TomorrowRMG Code
শ্রম আইন
ধারা৬১

ভবন ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা

২টি বিধিনির্দেশিকা আছে

আইনের টেক্সট

৬১৷ (১) যদি কোন পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা ইহার কোন অংশ অথবা ইহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট ১[বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা] এমন অবস্থায় আছে যে, ইহা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, তাহা হইলে তিনি মালিকের নিকট লিখিত আদেশ জারী করিয়া, উহাতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, তাহার মতে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন-উহা গ্রহণ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবেন৷

(২) যদি কোন পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা উহার কোন অংশ বা উহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট ২[বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা] এর ব্যবহার মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য আশু বিপজ্জনক, তাহা হইলে তিনি মালিকের উপর লিখিত আদেশ জারী করিয়া, উহা যথাযথভাবে মেরামত বা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত উহার ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন৷

সংশোধনী টীকা (২)
  1. "বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা" শব্দগুলি "প্ল্যান্ট " শব্দটির পর বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ২২ ধারাবলে সংযোজিত।
  2. "বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা" শব্দগুলি "প্ল্যান্ট " শব্দটির পর বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ২২ ধারাবলে সংযোজিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ৬১ — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।

সংশ্লিষ্ট বিধি

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ · এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
বিধি ৫৩

ভবন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য কাঠামোর নিরাপত্তা

(১) ধারা ৬১ (১) বাস্তবায়নের সময় পরিদর্শক ভবন, পথ, যন্ত্রপাতি বা প্লান্টসহ উক্ত ধারায় উল্লিখিত বিষয়গুলি ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানের কোন দেওয়াল, চিমনি, সেতু, সুড়ঙ্গ, রাস্তা, গ্যালারী, সিঁড়ি, র্যাম্প, মেঝে, প্লাটফরম, মাচা, রেলপথ বা বৈদ্যুতিক বা যান্ত্রিক পদ্ধতির যানবাহন চালানোর রাস্তা বা অন্য কোন কাঠামো, উহা স্থায়ী বা অস্থায়ী যে রকমই হউক না কেন, বিবেচনায় আনিবেন যেন ইহা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক না হয় :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ ক্ষেত্রে এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পূর্বে প্রতিষ্ঠিত বা নির্মিত বা চালুকৃত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোন স্বীকৃত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম কর্তৃক ভবনের স্থায়িত্ব এবং ওজন বহন ক্ষমতা (load capacity) এবং যন্ত্রপাতি ও অন্য যে কোন কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি অনুসরণ করা হইয়াছে কিনা, উহার সনদ পরিদর্শকের নিকট দাখিল এবং প্রদর্শন করিবার জন্য মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং যাচাই করিতে পারিবেন।

(২) এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পর কোন কারখানা ভবন নির্মাণ বা কোন ভবনে কারখানা স্থাপন করিতে হইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বা প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী নির্মিত হইয়াছে মর্মে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে সনদ গ্রহণ করিতে হইবে।

(৩) ধারা ৬১ (২) অনুযায়ী পরিদর্শক কর্তৃক প্রদান করা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাহার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে কোন মালিক বা কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হইলে উহা চলমান অপরাধ অর্থাৎ প্রতিদিন কৃত অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ৫৩ এর (ক) উপ-বিধি (১) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-বিধি (১ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা: “(১ক) যদি মালিকের নিকট উহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা ইহার কোন অংশ অথবা কোন পথ যন্ত্রপাতি বা প্লান্ট বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক অবস্থা এমন অবস্থায় রহিয়াছে যে, ইহা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, তাহা হইলে মালিক নিজ দায়িত্বে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শককে অবহিত করিবেন এবং ইহার প্রতিকারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিতকরণে স্বীকৃত ইঞ্জিনিয়ার বা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম কর্তৃক পরীক্ষা করাইবেন।’’; (খ) উপ-বিধি (৩) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-বিধি (৪) সন্নিবেশিত হইবে, যথা: “(৪) পরিদর্শক কর্তৃক প্রদানকৃত সময়সীমার মধ্যে মালিক বা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা ইহার কোন অংশ অথবা ইহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি বা প্লান্ট বন্ধ করিতে ব্যর্থ হইলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহিত সমন্বয় করিয়া প্রতিষ্ঠানের উক্ত ভবন বা উহার কোন অংশ অথবা উহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি বা প্লান্ট বন্ধ করিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।’’;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ২৩
বিধি ৫৮

বৈদ্যুতিক বিপদ সম্পর্কে সতর্কতা

(১) প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন এবং সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যথাযথ আকৃতির এবং পর্যাপ্ত শক্তিসম্পন্ন হইতে হইবে এবং এমনভাবে নির্মিত, সংরক্ষিত ও কার্যকর হইতে হইবে যাহাতে উহা কোন ব্যক্তির দৈহিক ঝুঁকির কারণ না হয়।

(২) কারখানা বা প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাইবার পূর্বে বা ব্যবসা বা সেবা চালু করিবার পূর্বে অবশ্যই বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এর উপযুক্ততা সনদ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে গ্রহণ করিতে হইবে।

(৩) প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান যেখানে কোন প্রকার বিদ্যুৎ সরবরাহ রহিয়াছে এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় সেইখানে এমন স্বয়ংক্রিয় কারিগরি কৌশল স্থাপন করিতে হইবে, যাহার ফলে কোন প্রকার বৈদ্যুতিক বা অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা ঘটিলে যে কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অচল হইয়া যাইবে।

(৪) উক্তরূপ কারিগরি কৌশল স্থাপনের ব্যাপারে পরিদর্শক নিশ্চিত হইলে তিনি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে গৃৃহীত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনার সময় উক্ত কারিগরি কৌশলটি বিবেচনায় গ্রহণ করিবেন।

(৫) প্রতিটি বহনযোগ্য হাত-বাতি অবশ্যই অপরিবাহী পদার্থ দ্বারা বেষ্টিত হাতল সংযুক্ত হইতে হইবে এবং উহার বাল্বটি অবশ্যই ল্যাম্পধারকের ধাতব অংশ হইতে বিযুক্তভাবে ভিতরে খাঁচার মধ্যে রাখিতে হইবে।

(৬) বাস্তবসম্মত বহনযোগ্য যন্ত্রপাতি নমনীয়ভাবে এবং সরবরাহ লাইনের মধ্যবর্তী সংযোগ যথাযথভাবে ডিজাইন করিয়া থ্রিপিন প্লাগ ও সুইচ সমেত সকেট সংযুক্ত রাখিতে হইবে, যাহাতে ভুল অন্তঃপ্রবেশ সম্ভব না হয়।

(৭) সকল বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও সুইচ বোর্ডসমূহ বিদ্যুত অপরিবাহী পদার্থ দ্বারা ’কনসিল ওয়ারিং’ এর মাধ্যমে সম্পন্ন করিতে হইবে।

(৮) নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করিতে প্রতি ১২ (বারো) মাসে অন্তত একবার অথবা সার্টিফিকেটে প্রদত্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে একজন উপযুক্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওয়্যারিং পরিদর্শক বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাংগ আর্থিং (earthing) ও ওয়্যারিং (wiring) পরীক্ষা করাইয়া ফলাফলসহ প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৯) বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও উহা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হইতে সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদান করা যাইবে না।

(১০) ব্যবহার্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ধরন, পরিকল্পনা এবং কারখানার যে কোন অংশে যেখানে দহনযোগ্য বা বিস্ফোরক মিশ্রণ ব্যবহৃত হয় বা জমা রাখা হয় সেই অংশের বৈদ্যুতিক তারের লাইন লাগানোর ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শককে অবহিত করিতে হইবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ২৯

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি

বাস্তবায়ন নির্দেশিকা

করণীয়
Building structural safety নিশ্চিত করুন; ফাটল/ঝুঁকি দেখা দিলে পরিদর্শকের নির্দেশ মানুন।
রেকর্ড
Approved building plan, structural assessment (DEA) ও load plan।

নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য EPZ আইনে BLA-র মতো আলাদা আলাদা ধারা নেই। ধারা ৩৫-এ মালিকের সাধারণ দায়িত্ব দেওয়া আছে, আর বিস্তারিত পদ্ধতি প্রবিধান/বিধিমালা ও BEPZA-র নির্দেশনায়। BLA-তে প্রতিটি বিষয়ে আলাদা ধারা ও শ্রম বিধিমালার আলাদা বিধি আছে।

EPZ ধারা ৩৫ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ৬১ · ভবন ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা

৬১৷ (১) যদি কোন পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা ইহার কোন অংশ অথবা ইহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট ১[বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা] এমন অবস্থায় আছে যে, ইহা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, তাহা হইলে তিনি মালিকের নিকট লিখিত আদেশ জারী করিয়া, উহাতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, তাহার মতে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন-উহা গ্রহণ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবেন৷

(২) যদি কোন পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা উহার কোন অংশ বা উহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট ২[বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা] এর ব্যবহার মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য আশু বিপজ্জনক, তাহা হইলে তিনি মালিকের উপর লিখিত আদেশ জারী করিয়া, উহা যথাযথভাবে মেরামত বা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত উহার ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন৷

EPZ ধারা ৩৫ · স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত সাধারণ বিধান

৩৫। (১) প্রত্যেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের তাহার শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ প্রদান ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ করা দায়িত্ব ও কর্তব্য।

(২) প্রত্যেক মালিক, তাহার প্রতিষ্ঠানে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন-

(ক) মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ কারখানা ভবন ও ভবনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা, মেঝে, সিঁড়ি এবং যাতায়াত পথ এবং যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট বা কাজের সিস্টেম (working system) প্রদান ও রক্ষণাবেক্ষণ;

(খ) কোনো দ্রব্য, পদার্থ, ইত্যাদির ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা;

(গ) কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ক্ষেত্রমত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করা;

(ঘ) বিনামূল্যে নিরাপত্তা উপকরণ, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি, বিষাক্ত কেমিক্যাল অথবা বিশেষ কোনো কাজে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য শ্রমিকদেরকে যথাযথ নিরাপত্তামূলক পোশাক ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ;

(ঙ) প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, কারখানা ভবনের প্রত্যেক তলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং শ্রমিকগণকে এই সকল নিরাপত্তা উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা নোটিশের ব্যবস্থা;

(চ) যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অথবা ভিন্ন অবস্থায় থাকিবার সময় যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা বিধান করা;

(ছ) উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে উত্থিত গ্যাস, ধোঁয়া, বাষ্প বা ধূলা এমন প্রকৃতির বা এমন পরিমাণের হয় যে, উহা বিষ্ফোরিত বা প্রজ্জলিত হইবার সম্ভাবনা থাকে, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ বিষ্ফোরণ বন্ধ করিবার জন্য সর্বপ্রকার ব্যবস্থা;

(জ) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে পুরুষ এবং মহিলা শ্রমিকগণের জন্য স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের ব্যবস্থা এবং এইগুলি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্য সম্মত রাখা;

(ঝ) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত সকল শ্রমিকের পান করিবার জন্য উহার কোনো সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ;

(ঞ) সেইফটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ, সেইফটি কমিটি গঠন, কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ, ধৌতকরণ সুবিধা, ক্যান্টিন, শিশুকক্ষ, ইত্যাদি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা;

(ট) কর্ম পরিচালনায় নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির শারীরিক জখম, বিষাক্রান্ত বা ব্যাধিতে আক্রান্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

(৩) কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানে প্রবিধান দ্বারা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ নির্ধারণ করিবে-

(ক) উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট কোনো বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা;

(খ) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা, ধূলা-বালি ও ধোঁয়া, কৃত্রিম আর্দ্রকরণ, অতিরিক্ত ভীড়, আলোর ব্যবস্থা, আবর্জনা বাক্স ও পিকদানী, ইত্যাদির ব্যবস্থা;

(গ) যন্ত্রপাতি ঘিরিয়া রাখা, চলমান যন্ত্রপাতির উপরে বা নিকটে কাজ, স্ট্রাইকিং গিয়ার এবং শক্তি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করিবার পন্থা, ক্রেন এবং অন্যান্য উত্তোলন যন্ত্রপাতি, হয়েস্ট এবং লিফট, ঘূর্ণায়মান যন্ত্রপাতি, প্রেসার প্ল্যান্ট, অতিরিক্ত ওজন, বিপজ্জনক বিস্ফোরক বা দাহ্য গ্যাস, ধূলা, ধোঁয়া, ইত্যাদির বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং চোখের নিরাপত্তা;

(ঘ) বিপজ্জনক চালনা, বিপজ্জনক ঘটনা, দুর্ঘটনা, ব্যাধি ইত্যাদি সম্পর্কে নোটিশের ব্যবস্থা;

(ঙ) ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ নির্ণয় অথবা উহার স্থায়িত্ব পরীক্ষার ক্ষমতা, দুর্ঘটনা বা ব্যাধি সম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা, নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা, কতিপয় বিপদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের ক্ষমতা, বিপজ্জনক ভবন এবং যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে তথ্য প্রদান, কতিপয় কাজে মহিলা শ্রমিকগণের নিয়োগে বাধা নিষেধ;

(চ) কারখানা ভবন ও অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কিত নিরাপত্তা।