RMG Code — Rules for a Better TomorrowRMG Code
শ্রম আইন
ধারা২৬৪

বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল অথবা সর্বজনীন পেনশন স্কীমে অংশগ্রহণ

২০২৬ সালে সংশোধিত৮টি বিধিনির্দেশিকা আছে

আইনের টেক্সট

২৬৪৷ ( ১) বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠান উহার শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে।

(২) উপরিউক্ত ভবিষ্য তহবিল ধারা ৩ এর অধীন কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এতদ্‌উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় গঠিত হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, এবং যদি উক্তরূপ বিধি প্রণীত হয় তাহা হইলে যে প্রতিষ্ঠানে উহা প্রযোজ্য হইবে সে প্রতিষ্ঠান উহার বিধানাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে৷

(৪) উক্তরূপ ভবিষ্য তহবিল একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হইবে৷

(৫) উক্তরূপ ট্রাস্টি বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং উহাতে নিযুক্ত শ্রমিকগণের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হইবে; এবং সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি ইহার চেয়ারম্যান হইবেন৷

(৬) মালিকের প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইবেন এবং শ্রমিকগণের প্রতিনিধি যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক মনোনীত হইবেন ২[ :

তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি থাকিবে না সেই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত হইবেন।]

(৭) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ৩[ বা অংশগ্রহণকারী কমিটি নাই, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি মহাপরিচালকের] তত্ত্বাবধানে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের দ্বারা নির্বাচিত হইবেন৷

(৮) ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্য দুই বত্সরের মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাহারা স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷

(৯) যে প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন করা হইয়াছে সে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক স্থায়ী শ্রমিক উহাতে তাহার চাকুরী এক বত্সর পূর্ণ করিবার পর প্রত্যেক মাসে উহার ভবিষ্য তহবিলে, ভিন্নরূপ কোন চুক্তি না থাকিলে, তাহার মাসিক মূল মজুরীর অন্যুন সাত শতাংশ এবং অনধিক আট শতাংশ হারে চাঁদা প্রদান করিবেন; এবং মালিকও ইহাতে উক্ত হারে চাঁদা প্রদান করিবেন৷

৪[(১০) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেসকল প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১০০ (একশত) জন স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন, সেই সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে বাধ্য থাকিবে, যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক মালিকের নিকট লিখিত দরখাস্ত পেশ করিয়া উক্তরূপ ভবিষ্য তহবিল গঠনের দাবি করে, তবে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলের মধ্যে যাহারা লিখিতভাবে আগ্রহ প্রকাশ করিবে, তাহাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবর্তিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’-তে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিলে ভবিষ্য তহবিল গঠনের বিধান হইতে মালিক অব্যাহতি পাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত স্কীমে মালিক ৫০% চাঁদা প্রদান করিবে এবং কর্মরত শ্রমিকও ৫০% চাঁদা প্রদান করিবে:

আরও শর্ত থাকে যে, কোনো শ্রমিক স্কীমের সদস্য হইতে লিখিতভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করিলে মালিক তাহার প্রদত্ত ৫০% চাঁদা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে না।]

(১১) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১০) এর অধীন ভবিষ্য তহবিল গঠনের দাবী করা হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক দরখাস্ত প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে উহা গঠনের জন্য ধারা ৩ এর অধীন প্রয়োজনীয বিধি প্রণয়ন করিবেন এবং ভবিষ্য তহবিল উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার পূর্বেই চালু করিবেন।

৫[(১২) উক্ত ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের অন্যূন অর্ধেক সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগযোগ্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।]

(১৩) উক্ত ভবিষ্য তহবিলের পরিচালনা ব্যয় মালিক বহন করিবেন৷

(১৪) প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যেভাবে নিরীক্ষিত হয়, ভবিষ্য তহবিলের প্রতি বত্সরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও সেভাবে প্রতিষ্ঠানের খরচে নিরীক্ষিত হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার নিজ খরচে উক্ত তহবিলের আয়-ব্যয়ের কোন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(১৫) ভবিষ্য তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব তত্সম্পর্কে নিরীক্ষা রিপোর্টসহ, নিরীক্ষা রিপোর্ট পেশ করার এক মাসের মধ্যে শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

৬[***]

(১৭) এই ধারার বিধান অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিল গঠনকারী কোন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ১৯নং আইন) এর উদ্দেশ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে৷

(১৮) এই ধারায় বেসরকারী খাতের প্রতিষ্ঠান বলিতে এমন কোন প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে যাহা সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি মালিকানায় বা ব্যবস্থাপনায় নাই অথবা যাহার ক্ষেত্রে সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন ভবিষ্য তহবিল বিধি প্রযোজ্য হয় না৷

সংশোধনী টীকা (৬)
  1. উপান্তটীকা বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ৫৬(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
  2. কোলন দাঁড়ির পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত এবং শর্তাংশ বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৮ নং আইন) এর ৩৭(ক) ধারাবলে সন্নিবেশিত।
  3. ‘‘বা অংশগ্রহণকারী কমিটি নাই, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি মহাপরিচালকের’’ শব্দগুলি ও কমা ‘‘নাই, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি শ্রম পরিচালকের’’ শব্দগুলি ও কমার পরিবর্তে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৮ নং আইন) এর ৩৭(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
  4. উপ-ধারা (১০) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ৫৬(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
  5. উপ-ধারা (১২) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ৫৬(গ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
  6. উপ-ধারা (১৬) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ৫৬(ঘ) ধারাবলে বিলুপ্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ২৬৪ — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।

সংশ্লিষ্ট বিধি

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ · এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
বিধি ২৩৭

ভবিষ্য তহবিল গঠন ও বিধি প্রণয়ন

(১) কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন ও পরিচালনা আইনের সপ্তদশ অধ্যায়, এই বিধিমালা ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুমোদিত চাকরি বিধি দ্বারা পরিচালিত হইবে।

(২) কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্য তহবিল গঠন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে নিজস্ব বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নিজস্ব বিধির কোন বিধান আইনের সপ্তদশ অধ্যায় ও এই বিধিমালার বিধানের পরিপন্থি হইতে পারিবে না।

(৩) কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন করা হইলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিমালার অবর্তমানে উহা এই বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত হইবে।

(৪) ভবিষ্য তহবিল গঠনের সংগে সংগে ধারা ২৬৪ এর বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক এতদুদ্দেশ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করিবেন।

(৫) ধারা ২৬৪ (১০) মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের অন্যূন তিন-চতুর্থাংশ শ্রমিক মালিকের নিকট লিখিত দরখাস্ত পেশ করিলে প্রতিষ্ঠানের মালিক এতদুদ্দেশ্যে ভবিষ্য তহবিল পরিচালনা করিবার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করিতে বাধ্য থাকিবে।

(৬) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, শ্রমিক বলিতে মালিক বা অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ব্যতীত পদমর্যদা নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকলকে বুঝাইবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১০৮
বিধি ২৩৮

ভবিষ্য তহবিলে সদস্য হইবার যোগ্যতা

(১) কোন প্রতিষ্ঠানে আইন ও এই বিধিমালার অধীন গঠিত ভবিষ্য তহবিলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মালিক বা অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ব্যতীত পদমর্যাদা নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যাহাদের চাকরিকাল ন্যূনতম এক বৎসর পূর্ণ হইয়াছে এমন প্রত্যেকেই সদস্য হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, বেআইনী লক-আউট, আইনসম্মত ধর্মঘট, লে-অফের দিনসমূহ এবং সাপ্তাহিক ছুটি, পীড়া ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি, অনধিক ষোল সপ্তাহের প্রসূতি কালীন ছুটি এবং অনুমোদিত অন্য যে কোন ছুটি বা অবকাশের দরুন শ্রমিকের অনুপস্থিতি প্রতিষ্ঠানে তাহার চাকরির ধারাবাহিকতাকে ক্ষুণ্ন করিবে না।

(২) তহবিলের সদস্য হইবার যোগ্যতা অর্জনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী ও তাহার মনোনীত উত্তরাধিকারীর নাম ও অন্যান্য তথ্যাবলি প্রত্যয়নসহ ফরম- ৬৭ অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ডের নিকট দাখিল করিবেন।

(৩) যদি যোগদানের সময় মনোনয়ন দেওয়া না হইয়া থাকে, সদস্য হইবার ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিক-কর্মচারী ও তাহার মনোনীত ব্যক্তির এক কপি করিয়া পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ মনোনয়ন দাখিল করিতে শ্রমিককে মালিক নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নির্দেশ প্রাপ্তির পরবর্তী ১০(দশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী নির্ধারিত ফরমে তাহার তথ্যাবলি মালিকের নিকট দাখিল করিবেন, যাহা মালিক প্রাপ্ত হইবার ৫(পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে প্রত্যয়নসহ ট্রাষ্টি বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(৪) কোন শ্রমিকের ভবিষ্য তহবিলের সদস্য হইবার বা সদস্যপদ অব্যাহত থাকিবার ব্যাপারে অথবা সদস্য হইবার তারিখ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে সেই সম্পর্কে ট্রাষ্টি বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।

(৫) বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উহা অবহিত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সংক্ষুদ্ধ শ্রমিক কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।

(৬) উক্তরূপ আপিল দায়ের হইলে যাহার নিকট উহা দায়ের করা হইয়াছে তিনি উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া আপিল দায়েরের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবেন।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ২৩৮ এর উপ-বিধি (৫) এ উল্লিখিত ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার’ শব্দসমূহের পরিবর্তে ‘শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অথবা তৎকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার’ শব্দসমূহ প্রতিস্থাপিত হইবে;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১০৯
বিধি ২৫০

চাঁদা

(১) শ্রমিকের মজুরি যেভাবেই প্রদান করা হউক না কেন, মাসিক মূল মজুরির অন্যূন সাত শতাংশ এবং অনধিক আট শতাংশ ভিত্তিতে হিসাব করিয়া পরিশোধযোগ্য চাঁদার হার নির্ধারণ করিতে হইবে।

(২) মালিক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মজুরি পরিশোধকালে ভবিষ্য তহবিলের নির্ধারিত চাঁদার টাকা কর্তন করিয়া নিজের অংশের সমপরিমাণ অর্থসহ উক্ত মাস শেষ হইবার পনের দিনের মধ্যে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে ভবিষ্য তহবিলের হিসাবে জমা প্রদান করিতে হইবে এবং পে- অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের ব্যাংক মাশুল মালিক বহন করিবেন।

(৩) প্রতি মাস শেষ হইবার পনের দিনের মধ্যে মালিক একটি মাসিক প্রতিবেদন বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে প্রত্যেক শ্রমিকের নিকট হইতে কর্তনকৃত অর্থের পরিমাণ ও উক্ত শ্রমিকের খাতে মালিকের প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকিতে হইবে এবং কোন কারণে তহবিলে শ্রমিকের দেয় চাঁদা আদায় না হইয়া থাকিলে পরবর্তী মাসের মজুরি হইতে উহা কর্তন করা যাইবে।

(৪) বোর্ডের সচিব উপ-বিধি (২) মোতাবেক তহবিলের অর্থ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে উহার প্রাপ্তি স্বীকার করিবেন।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১১২
বিধি ২৬২

নমিনী মনোনয়ন

(১) প্রত্যেক সদস্য তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে তহবিলে তাহার নামে জমা অর্থ গ্রহণের অধিকার প্রদান করিয়া ফরম-৪১ অনুযায়ী তাহার নমিনীর ছবিসহ মনোনয়ন প্রদান করিবেন।

(২) যে ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রদানের সময় সদস্যের পরিবার থাকে, সেই ক্ষেত্রে পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে অন্যথায় উহা গৃহীত হইবে না।

(৩) সদস্য ইচ্ছা করিলে তাহার মনোনয়নপত্রে তাহার নামে জমা অর্থ তাহার মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে তাহার ইচ্ছানুযায়ী আনুপাতিক হারে ভাগ করিয়া প্রদান করিতে পারিবেন।

(৪) মনোনীত কোন ব্যক্তি যদি সদস্যের পূর্বেই মারা যান, সেই ক্ষেত্রে উক্ত সদস্য নূতন মনোনয়ন প্রদান করিবেন।

(৫) সদস্য কর্তৃক প্রদত্ত মনোনয়ন সদস্যের নিকট হইতে প্রাপ্ত লিখিত নোটিশের ভিত্তিতে যে কোন সময় পরিবর্তন করা যাইবে।

(৬) কোন মনোনয়ন এবং উহার কোন পরিবর্তন বোর্ড যে তারিখে প্রাপ্ত হইবে সেই তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১১৪
বিধি ২৬৫

ভবিষ্য তহবিলে অর্থ পরিশোধ

(১) যে ক্ষেত্রে কোন সদস্যের নামে জমা অর্থ অথবা এই বিধিমালা মোতাবেক কোন কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ প্রদেয় হয়, সেই ক্ষেত্রে বোর্ড উক্ত সদস্যের হিসাবটি বন্ধ করিবে এবং যে ব্যক্তিকে অর্থ প্রদেয় হয় তাহাকে প্রদানের জন্য প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট করিয়া একটি লিখিত নোটিস প্রদান করিবে।

(২) প্রদেয় অর্থের কোন অংশের ব্যাপারে যদি বিরোধ বা সন্দেহের সৃষ্টি হয়, সেই ক্ষেত্রে বোর্ড যে অংশের ব্যাপারে কোন বিরোধ বা সন্দেহ নাই সেই অংশ অবিলম্বে প্রদান করিবে এবং বিরোধীয় বিষয়টি যত শীঘ্র সম্ভব নিষ্পত্তি করিবে।

(৩) এই বিধিমালা মোতাবেক অর্থ প্রদেয় হইতেছে এমন ব্যক্তি যদি নাবালক বা উন্মাদ হইয়া থাকেন সেই ক্ষেত্রে Guardians and Wards Act, 1890 (Act No. VIII of 1890) অনুযায়ী নাবালক ব্যক্তির পক্ষে নিযুক্ত কোন অভিভাবক অথবা Lunacy Act, 1912 (Act No. IV of 1912) অনুযায়ী উন্মাদ ব্যক্তির পক্ষে নিযুক্ত কোন ব্যবস্থাপককে উক্ত অর্থ প্রদান করিতে হইবে এবং যে ক্ষেত্রে অনুরূপ অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক নিয়োগ করা হয় নাই সেই ক্ষেত্রে নাবালক বা উন্মাদের পক্ষে আইনানুসারে প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উক্ত অর্থ প্রদান করিতে হইবে।

(৪) এই বিধি মোতাবেক অর্থ প্রাপ্তিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে বোর্ডের নিকট লিখিত আবেদন করিতে হইবে এবং যে ব্যক্তিকে অর্থ প্রদেয় হইবে তাহার ইচ্ছানুযায়ী মানি অর্ডারযোগে বা রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরিত ক্রশ চেকের মাধ্যমে অথবা প্রাপ্তি স্বীকারপূর্বক হাতে হাতে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা যাইবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১১৬
বিধি ২৬৬

তহবিল হইতে অগ্রিম গ্রহণ

(১) কোন সদস্য তাহার হিসাব জমায় স্থিতি অর্থ হইতে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনক্রমে নিম্নবর্ণিত শর্তে অগ্রিম গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:— ক) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার পরিবারের কোন সদস্যের চিকিৎসা সম্পর্কিত ব্যয় নির্বাহের জন্য; খ) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার পরিবারের কোন সদস্যের বিবাহ, মৃতের শেষকৃত্য অথবা অন্য কোন অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য; গ) বাসগৃহ নির্মাণ বা মেরামত অথবা বাসগৃহ বা ফ্ল্যাট ক্রয় অথবা বাসগৃহ নির্মাণের নিমিত্ত জমি ক্রয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য; ঘ) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার স্ত্রীর জীবন বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করিবার জন্য; ঙ) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার পরিবারের কোন সদস্যের সমুদ্র বা বিমানে ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের জন্য; এবং চ) কোন চাঁদাদাতা সদস্যের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহের জন্য।

(২) কোন অগ্রিম কোন ক্ষেত্রে সদস্যের হিসাবে রক্ষিত আয়কর মুক্ত চাঁদা ও মুনাফার মোট স্থিতির ৮০% (শতকরা আশি ভাগ) এর অধিক হইবে না, এবং প্রথম গৃহীত অগ্রিম সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী কোন অগ্রিম মঞ্জুর করা যাইবে না।

(৩) অগ্রিম হিসাবে গৃহীত অর্থ অনধিক মাসিক সমান ৬০ ষাট কিস্তিতে পরিশোধ করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন কিস্তি অগ্রিম গ্রহণকারী শ্রমিকের মাসিক মূল মজুরির এক- তৃতীয়াংশের অধিক হইবে না।

(৪) অগ্রিম হিসাবে গৃহীত অর্থ সমানভাগে ভাগ করিয়া যত কিস্তিতে মূল অগ্রিম পরিশোধ হইবে, অগ্রিমের সুদ হিসাবে উহার চাইতে একটি অতিরিক্ত কিস্তি পরিশোধ করিতে হইবে।

(৫) এই তহবিলের জমাকৃত অর্থ সদস্যদের অর্থ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং তহবিল হইতে মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের জন্য বা অন্য কোন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কোন প্রকার অগ্রিম বা ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবেন না।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১১৬
বিধি ২৫৭

তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ

— তহবিলের অর্থ বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে ধারা ২৬৪(১২) এ উল্লিখিত খাতসমূহে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ে বিনিয়োগ করা যাইবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১১৪
বিধি ৩০৩

সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন ও বিধি প্রণয়ন

(১) প্রত্যেক সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে ধারা ২৭৩ মোতাবেক বাধ্যতামূলকভাবে ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে হইবে এবং কোন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুমোদিত চাকরি বিধিমালার অবর্তমানে বিধি ৩০৩ হইতে ৩২৫ দ্বারা উহা পরিচালিত হইবে।

(২) ভবিষ্য তহবিল পরিচালনার উদ্দেশ্যে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করিতে হইবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১২৯

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি

বাস্তবায়ন নির্দেশিকা

করণীয়
ভবিষ্য তহবিল থাকলে স্থায়ী শ্রমিক ১ বছর পর মূল মজুরির ৭–৮% চাঁদা দেবেন, মালিকও সমান হারে। তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত।
২০২৬ পরিবর্তন
১০০+ স্থায়ী শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে শর্তসাপেক্ষে ভবিষ্য তহবিল বাধ্যতামূলক, সর্বজনীন পেনশন স্কীমে অংশগ্রহণের বিকল্প আছে; ধারা ২৬৪(১০)-এর পূর্ণ টেক্সট পড়ে সিদ্ধান্ত নিন।

নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

BLA: ভবিষ্য তহবিল সাধারণভাবে ঐচ্ছিক; ১০০+ স্থায়ী শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলক, সর্বজনীন পেনশন স্কীমের বিকল্প আছে (২০২৬, ধারা ২৬৪(১০))। EPZ ধারা ১৬৪-এ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠনের বিধান।

EPZ ধারা ১৬৪ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ২৬৪ · বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল অথবা সর্বজনীন পেনশন স্কীমে অংশগ্রহণ

২৬৪৷ ( ১) বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠান উহার শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে।

(২) উপরিউক্ত ভবিষ্য তহবিল ধারা ৩ এর অধীন কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এতদ্‌উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় গঠিত হইবে৷

(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, এবং যদি উক্তরূপ বিধি প্রণীত হয় তাহা হইলে যে প্রতিষ্ঠানে উহা প্রযোজ্য হইবে সে প্রতিষ্ঠান উহার বিধানাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে৷

(৪) উক্তরূপ ভবিষ্য তহবিল একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হইবে৷

(৫) উক্তরূপ ট্রাস্টি বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং উহাতে নিযুক্ত শ্রমিকগণের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হইবে; এবং সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি ইহার চেয়ারম্যান হইবেন৷

(৬) মালিকের প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইবেন এবং শ্রমিকগণের প্রতিনিধি যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক মনোনীত হইবেন ২[ :

তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি থাকিবে না সেই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত হইবেন।]

(৭) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ৩[ বা অংশগ্রহণকারী কমিটি নাই, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি মহাপরিচালকের] তত্ত্বাবধানে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের দ্বারা নির্বাচিত হইবেন৷

(৮) ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্য দুই বত্সরের মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাহারা স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷

(৯) যে প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন করা হইয়াছে সে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক স্থায়ী শ্রমিক উহাতে তাহার চাকুরী এক বত্সর পূর্ণ করিবার পর প্রত্যেক মাসে উহার ভবিষ্য তহবিলে, ভিন্নরূপ কোন চুক্তি না থাকিলে, তাহার মাসিক মূল মজুরীর অন্যুন সাত শতাংশ এবং অনধিক আট শতাংশ হারে চাঁদা প্রদান করিবেন; এবং মালিকও ইহাতে উক্ত হারে চাঁদা প্রদান করিবেন৷

৪[(১০) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেসকল প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১০০ (একশত) জন স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন, সেই সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে বাধ্য থাকিবে, যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক মালিকের নিকট লিখিত দরখাস্ত পেশ করিয়া উক্তরূপ ভবিষ্য তহবিল গঠনের দাবি করে, তবে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলের মধ্যে যাহারা লিখিতভাবে আগ্রহ প্রকাশ করিবে, তাহাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবর্তিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’-তে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিলে ভবিষ্য তহবিল গঠনের বিধান হইতে মালিক অব্যাহতি পাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত স্কীমে মালিক ৫০% চাঁদা প্রদান করিবে এবং কর্মরত শ্রমিকও ৫০% চাঁদা প্রদান করিবে:

আরও শর্ত থাকে যে, কোনো শ্রমিক স্কীমের সদস্য হইতে লিখিতভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করিলে মালিক তাহার প্রদত্ত ৫০% চাঁদা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে না।]

(১১) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১০) এর অধীন ভবিষ্য তহবিল গঠনের দাবী করা হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক দরখাস্ত প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে উহা গঠনের জন্য ধারা ৩ এর অধীন প্রয়োজনীয বিধি প্রণয়ন করিবেন এবং ভবিষ্য তহবিল উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার পূর্বেই চালু করিবেন।

৫[(১২) উক্ত ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের অন্যূন অর্ধেক সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগযোগ্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।]

(১৩) উক্ত ভবিষ্য তহবিলের পরিচালনা ব্যয় মালিক বহন করিবেন৷

(১৪) প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যেভাবে নিরীক্ষিত হয়, ভবিষ্য তহবিলের প্রতি বত্সরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও সেভাবে প্রতিষ্ঠানের খরচে নিরীক্ষিত হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার নিজ খরচে উক্ত তহবিলের আয়-ব্যয়ের কোন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে৷

(১৫) ভবিষ্য তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব তত্সম্পর্কে নিরীক্ষা রিপোর্টসহ, নিরীক্ষা রিপোর্ট পেশ করার এক মাসের মধ্যে শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷

৬[***]

(১৭) এই ধারার বিধান অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিল গঠনকারী কোন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ১৯নং আইন) এর উদ্দেশ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে৷

(১৮) এই ধারায় বেসরকারী খাতের প্রতিষ্ঠান বলিতে এমন কোন প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে যাহা সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি মালিকানায় বা ব্যবস্থাপনায় নাই অথবা যাহার ক্ষেত্রে সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন ভবিষ্য তহবিল বিধি প্রযোজ্য হয় না৷

EPZ ধারা ১৬৪ · ভবিষ্য তহবিল গঠন

১৬৪। (১) প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক উহার শ্রমিকগণের জন্য একটি ভবিষ্য তহবিল গঠন করিবেন।

(২) ভবিষ্য তহবিলের গঠন, পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয়াদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) ভবিষ্য তহবিলের সদস্যদের বিদ্যমান কোনো আর্থিক বা প্রদত্ত অন্য কোনো সুবিধাদি মালিক কমাইতে পারিবে না।