বিধি ১০৩ — অগ্নিকান্ড সম্পর্কে নিরাপত্তা
অগ্নিকান্ড সম্পর্কে নিরাপত্তা
(১) আইনের ধারা ৩৫(৩)(চ) এর বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিতভাবে অগ্নিকান্ডের সময় প্রত্যেক তলার সহিত সংযোগ রক্ষাকারী অন্তত একটি বিকল্প সিঁড়িসহ বহির্গমনের পথ এবং প্রত্যেক তলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(২) প্রতিষ্ঠান ভবনের প্রতিটি কক্ষ যেইস্থানে ২০ (বিশ) জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি কাজ করেন সেইস্থানে অন্যূন ২ (দুই) টি করিয়া বহির্গমন পথ থাকিতে হইবে এবং উক্ত পথ এইরূপভাবে অবস্থিত থাকিবে যাহাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহার কাজের স্থান হইতে বহির্গমন পথ পর্যন্ত বাঁধাহীনভাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পৌঁছাইতে পারে এবং উক্তরূপ বর্হিগমন পথ কোনো শ্রমিকের কাজের স্থান হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) মিটারের অধিক দূরত্বে হইবে না এবং উহা প্রস্থে ১.১৫ মিটার এবং উচ্চতায় ২.০০ মিটারের কম হইতে পারিবে না।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভবনে বা ভবনের কোনো নিচ তলার উপরে ২০ (বিশ) বা ততোধিক শ্রমিক কাজ করেন অথবা যেইস্থানে দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় বা জমা রাখা হয় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভবন বা উহার অংশ ভূ-সমতলের নিম্নে অবস্থিত সেইক্ষেত্রে জরুরি অবস্থায় বাহির হইবার জন্য ভবনের ভিতরে বা বাহিরে স্থায়ীভাবে নির্মিত কমপক্ষে ২ (দুই) টি মজবুত এবং পৃথক সিঁড়ির ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে এবং উহা অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ এবং সরাসরি ও বাঁধাহীন যাতায়াতের ব্যবস্থা সংবলিত হইতে হইবে।
(৪) যদি কোনো পরিদর্শকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উপ-বিধি (১) ও (২) এ উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী বহির্গমনের ব্যবস্থা করা হয় নাই অথবা বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের লাইসেন্স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম নাই তাহা হইলে তিনি মালিককে লিখিত আদেশ প্রদান করিয়া উহাতে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(৫) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কোনো কক্ষ হইতে বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা আটকাইয়া রাখা যাইবে না যাহাতে কোনো ব্যক্তি কক্ষের ভিতরে কর্মরত থাকিলে উহা তৎক্ষণাৎ ভিতর হইতে সহজে খোলা যায়, যদি না এইগুলি স্লাইডিং টাইপের হয়, এই প্রকার সকল দরজা এইরূপে তৈরি করিতে হইবে যেন উহা বাহিরের দিকে খোলা যায়।
(৬) যদি কোনো দরজা ২ (দুই) টি কক্ষের মাঝখানে হয় তাহা হইলে উহা ভবনের নিকটতম বহির্গমন পথের কাছাকাছি দিকে খোলা যায় এইরূপে তৈরি করিতে হইবে এবং এই প্রকার কোনো দরজা কক্ষে কাজ চলাকালীন সময়ে তালাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত অবস্থায় রাখা যাইবে না।
(৭) আগুন লাগিলে বাহির হইয়া যাইবার জন্য ব্যবহৃত
(ক) প্রত্যেকটি সিঁড়ি মজবুত হ্যান্ড রেইলযুক্ত থাকিবে;
(খ) প্রত্যেকটি সিঁড়ি এবং উহার রেইল তাপ অপরিবাহী ও অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ করিতে হইবে;
(গ) প্রত্যেকটি সিঁড়ি অমসৃন হইতে হইবে; এবং ০
(ঘ) সমতল হইতে ৪৫ কোণের অধিক কৌণিক দূরত্বে নির্মাণ করা যাইবে না।
(৮) ৬ (ছয়) তলা পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনের কোনো সিঁড়ি ১.১৫ মিটারের কম প্রশস্ত হইবে না এবং ষষ্ঠ তলার অধিক উচ্চতাসম্পন্ন ভবনের সিঁড়ি ২.০০ মিটারের নিম্নে প্রশস্ত হইবে না এবং বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থাবিহীন বিল্ডিং এবং স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থা সংবলিত বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে Bangladesh National Building Code (BNBC), 2020 এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা জারির পূর্বে নির্মিত সকল বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে সিঁড়ির প্রশস্ততা কোনো ক্রমেই ১.১৫ মিটারের নিম্নে হইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, পুরাতন অবকাঠামোজনিত কারণে সিঁড়ির প্রশস্ততা বৃদ্ধির সুযোগ না থাকিলে সেইক্ষেত্রে সিঁড়ির প্রশস্ততা ০.৮২ মিটারের নিম্নে হইবে না।
(৯) ২ (দুই) টি বর্হিগমন পথ বা সিঁড়ি ৫০ (পঞ্চাশ) মিটারের অধিক দূরত্বে এবং পরস্পরের সন্নিকটে হইবে না এবং কমপক্ষে অর্ধেক সংখ্যক সিঁড়ির শেষ প্রান্ত ভবনের বহির্মুখী হইতে হইবে।
(১০) সিঁড়িতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও আলোর ব্যবস্থা থাকিতে হইবে যেন সিড়িঁটি ধোঁয়াচ্ছন্ন বা অন্ধকারাচ্ছন্ন না হইতে পারে এবং চিলেকোঠায় অবস্থিত দরজা কাজ চলাকালীন বন্ধ বা তালাবদ্ধ রাখা যাইবে না।
(১১) প্রতিটি ফ্লোরের ন্যূনতম একটি গ্রিল বিহীন জানালা থাকিবে যা কব্জা সংযুক্ত হইতে হইবে এবং যাহাতে জরুরি প্রয়োজনে খুলিয়া লেডার বা দড়ির মইয়ের সাহায্যে নিম্নে নামিয়া আসা যায় এবং নিচ তলায় শক্ত দড়ির জাল সংরক্ষণ করিতে হইবে যাহাতে অগ্নি দুর্ঘটনার সময় জরুরি প্রয়োজনে দড়ি বহিয়া উক্ত জালে অবতরণ করা যায়।
(১২) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বহির্গমনের জন্য ব্যবহৃত পথ ব্যতীত অগ্নিকান্ডের সময়ে বহির্গমনের জন্য ব্যবহার করা যাইবে এবং এইরূপ প্রত্যেক জানালা, দরজা বা অন্য কোনো বহির্গমন পথ স্পষ্টভাবে লাল রং দ্বারা বাংলা অক্ষরে অথবা অন্য কোনো সহজবোধ্য ভাষায় চিহ্নিত করিতে হইবে।
(১৩) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিককে অগ্নিকাণ্ডের বা বিপদের সময় তৎসম্পর্কে সর্তক করার জন্য স্পষ্টভাবে শ্রবণযোগ্য সর্তকতা সংকেতের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।
(১৪) প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কক্ষে কর্মরত শ্রমিকের অগ্নিকান্ডের সময় বিভিন্ন বহির্গমন পথে পৌঁছাইবার সহায়ক একটি অবাধ পথের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
(১৫) যেই প্রতিষ্ঠানে উহার নিচ তলার উপরে কোনো স্থানে ১০ (দশ) জন বা ততোধিক শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছে অথবা বিস্ফোরক বা অতিদাহ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়, গুদামজাত করা হয় সে প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডকালে বহির্গমনের উপায় সম্পর্কে সকল শ্রমিক যাহাতে সুপরিচিত থাকেন এবং উক্ত সময়ে তাহাদের করণীয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিতে পারেন সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা করিতে হইবে।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ৩৫
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি