RMG Code — Rules for a Better TomorrowRMG Code
শ্রম আইন

বিধি ২৫ — তদন্তের পদ্ধতি

বিধি ২৫

তদন্তের পদ্ধতি

(১) কোনো শ্রমিকের কোনো আচরণ বা কাজ অসদাচরণ কিনা উহা যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো প্রকার কৈফিয়ত তলব করেন এবং তৎপ্রেক্ষিতে শ্রমিক কর্তৃক

(ক) প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক হইলে অভিযোগ নিষ্পত্তি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই বিষয়টি শ্রমিকের পরবর্তী চাকরির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলিবে না;

(খ) জবাব প্রদান না করা হইলে বা প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক না হইলে শাস্তি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়া তাহার নিকট ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে রিপোর্ট উপস্থাপন করিতে নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং এইক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উত্থাপনের তথা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিন গণনা করিতে হইবে; এবং

(গ) অভিযুক্ত ব্যক্তি জবাবে তাহার দোষ স্বীকার করিলে মালিক তদন্ত কমিটি গঠন না করিয়া বিধি ২৩(২) এর বিধান অনুযায়ী লঘু শাস্তি প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) মালিক ও শ্রমিক পক্ষ হইতে সমসংখ্যক সদস্য লইয়া অনধিক ৬ (ছয়) জন সদস্য সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হইবে।

(৩) তদন্ত কমিটি, প্রয়োজনে, উপ-কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উপ-কমিটি উহার পর্যবেক্ষণসহ তদন্ত প্রতিবেদন মূল তদন্ত কমিটির নিকট উপস্থাপন করিবে।

(৪) তদন্ত কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কারখানা বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইবেন।

(৫) শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি, অভিযুক্ত শ্রমিকের লিখিত প্রস্তাবক্রমে, উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নিম্ন পদের কাউকে প্রতিনিধি হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করা যাইবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাহার প্রতিনিধি মনোনয়ন না করিলে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কোনো প্রতিনিধিকে বা অংশগ্রহণকারী কমিটির কোনো শ্রমিক প্রতিনিধিকে অথবা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা অংশগ্রহণকারী কমিটি না থাকিলে সাধারণ শ্রমিকের মধ্য হইতে কোনো শ্রমিককে মনোনয়ন প্রদান করা যাইবে।

(৬) বিধি ২৩(১) এর দফা (খ), (ছ), (ঠ) ও (ড) এর অধীন কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে অভিযুক্ত শ্রমিক ইচ্ছাপোষণ করিলে তাহার প্রতিনিধি হিসাবে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (যদি থাকে) এর কোনো সদস্য অথবা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি না থাকিলে অংশগ্রহণকারী কমিটির কোনো শ্রমিক প্রতিনিধিকে অথবা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা অংশগ্রহণকারী কমিটি না থাকিলে সাধারণ শ্রমিকের মধ্য হইতে কোনো শ্রমিককে (উক্ত শ্রমিকের লিখিত সম্মতিক্রমে) তাহার প্রতিনিধি হিসাবে মনোনয়ন করিতে পারিবে।

(৭) তদন্ত কমিটি তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে নিম্নরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করিবে, যথা:

(ক) তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ সংক্রান্ত সকল দলিল এবং যদি কোনো সাক্ষী থাকে তাহাকেসহ কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হইবার সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় উল্লেখপূর্বক নোটিশ জারি করিবে এবং অভিযোগনামার পক্ষে তদন্ত কমিটির নিকট অভিযোগ উপস্থাপনকারী মালিক বা কোম্পানি পক্ষের মনোনীত ব্যক্তিকে নোটিশের অনুলিপি প্রদান করিবে;

(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার প্রতিপক্ষের সাক্ষীকে জেরা করিবার এবং তাহার আত্মপক্ষ সমর্থন করিবার অধিকারী হইবেন;

(গ) তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং উভয়পক্ষের সাক্ষীর বিবরণ লিপিবদ্ধ করিবে এবং তাহারা যে ভাষা বুঝিতে সক্ষম সেই ভাষায় তাহাদেরকে উক্ত বিবরণী পড়িয়া শুনাইবে এবং অতঃপর সংশ্লিষ্ট বিবরণীতে সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে; এবং

(ঘ) অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্মত থাকিলে সকল সাক্ষীর বিবরণীতে তাহার স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তের সময় বিবরণীতে স্বাক্ষর করিতে অস্বীকার করিলে তাহাও লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং তদন্ত কমিটির সদস্য ও অন্যান্য সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে।

(৮) তদন্তকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করিলে তদন্ত কমিটি অপরাধ স্বীকৃত লিখিয়া তদন্ত কমিটির সদস্য তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করিয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে এবং তদন্ত কমিটির সদস্য স্বাক্ষর করিবে।

(৯) অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার না করিলে অভিযোগের স্বপক্ষের প্রত্যেক সাক্ষীকে পৃথকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে জেরা করিতে হইবে, তবে কোনো সাক্ষীকে অন্য সাক্ষীর উপস্থিতিতে জেরা করা যাইবে না।

(১০) অভিযুক্ত ব্যক্তি যথাযথ যোগাযোগের পরও উপযুক্ত কারণ বা অনুমতি ব্যতিরেকে তদন্ত কমিটির নিকট অনুপস্থিত থাকিলে তাহার অনুপস্থিতিতে একতরফা তদন্ত সম্পন্ন করিতে হইবে।

(১১) তদন্ত কমিটি তদন্ত অভিযোগনামার বিষয়বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিবে এবং কোনো অপ্রাসঙ্গিক দলিল গ্রহণ করিবে না।

(১২) তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করিয়া তদন্ত প্রতিবেদন মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করিবে।

(১৩) মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনাপূর্বক যথাযথ আদেশ প্রদান করিবেন।

সূত্র: এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ৪ অক্টোবর ২০২২, পিডিএফ পৃষ্ঠা ১৭

সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ২১

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি