বিধি ১২৭ — মজুরি পরিশোধের জন্য ইপিজেড শ্রম আদালতে দরখাস্ত
মজুরি পরিশোধের জন্য ইপিজেড শ্রম আদালতে দরখাস্ত
(১) যেইক্ষেত্রে আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ের বিধানের ব্যতিক্রম করিয়া কোনো শ্রমিকের মজুরি হইতে কোনো কর্তন করা হয় অথবা কোনো শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা না হয় অথবা তাহার মজুরি বা প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের প্রাপ্য পরিশোধে বিলম্ব ঘটে সেইক্ষেত্রে তিনি অথবা তাহার মৃত্যু হইলে তাহার কোনো উত্তরাধিকারী অথবা কোনো আইনসঙ্গত প্রতিনিধি কর্তৃক মজুরি ফেরত পাইবার জন্য অথবা বকেয়া বা বিলম্বিত মজুরি ও অন্যান্য পাওনা আদায়ের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফরম-৫১, ফরম-৫২ বা ফরম-৫৩ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইপিজেড শ্রম আদালতে দরখাস্ত উপস্থাপন করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন দাখিলকৃত দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট শ্রমিক যেই জোনে কাজ করিতেন অথবা যেই জোনে তাহাকে মজুরি পরিশোধ করা হইত উহা যেই ইপিজেড শ্রম আদালতের এখতিয়ারাধীন উক্ত আদালতে মজুরি কর্তনের তারিখ হইতে অথবা, ক্ষেত্রমত, মজুরি প্রদেয় হইবার তারিখ হইতে ১২ (বারো) মাসের মধ্যে উপস্থাপন করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উপ-বিধি (১) এর অধীন দাখিলকৃত দরখাস্ত মজুরি কর্তনের তারিখ হইতে অথবা, ক্ষেত্রমত, মজুরি প্রদেয় হইবার তারিখ হইতে ১২ (বারো) মাসের পরেও উপস্থাপন করা যাইবে যদি দরখাস্তকারী ইপিজেড শ্রম আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারেন যে, উক্ত সময়ের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল না করিবার জন্য তাহার যথেষ্ট কারণ ছিল।
(৩) ইপিজেড শ্রম আদালত উপ-বিধি (১) এর অধীন কোনো দরখাস্ত প্রাপ্তির পর উহার উপর দরখাস্তকারী এবং মালিক অথবা মজুরি পরিশোধের জন্য এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী দায়ী অন্য কোনো ব্যক্তিকে শুনানির জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিবে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করিবে এবং যে মজুরি কর্তন করা হইয়াছে বা যে মজুরি পরিশোধ করা হয় নাই বা পরিশোধে বিলম্ব করা হইতেছে উহা দরখাস্তকারীকে পরিশোধ করিবার জন্য মালিক বা মজুরি পরিশোধের জন্য দায়ী উক্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) উপ-বিধি (৩) এর অধীন কোনো আদেশ এই আইনের অধীন উক্ত মালিক বা মজুরি পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রহণীয় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হানি করিবে না।
(৫) ইপিজেড শ্রম আদালত উপ-বিধি (৩) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশের সময় মজুরির ২৫% (শতকরা পঁচিশ ভাগ) ক্ষতিপূরণ হিসাবে দরখাস্তকারীকে প্রদানের জন্যও মালিক বা মজুরি পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) মজুরি পরিশোধে বিলম্বের ক্ষেত্রে উপ-বিধি (৫) এর অধীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কোনো নির্দেশ প্রদান করা যাইবে না যদি ইপিজেড শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত বিলম্বের কারণ ছিল
(ক) শ্রমিককে প্রদেয় মজুরির পরিমাণ সম্পর্কে প্রকৃত ভুল বা প্রকৃত বিরোধ ;
(খ) কোনো জরুরি অবস্থা অথবা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে মজুরি পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তি কর্তৃক তাহার যুক্তিসঙ্গত চেষ্টা সত্ত্বেও যথাসময়ে উহা প্রদান করিতে অক্ষমতা; অথবা
(গ) মজুরি গ্রহণে অথবা উহার জন্য দরখাস্ত করিতে শ্রমিকের ব্যর্থতা।
(৭) এই বিধির অধীন কোনো দরখাস্ত শুনানিকালে যদি ইপিজেড শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত দরখাস্ত বিদ্বেষপ্রসূত অথবা অসৎ উদ্দেশ্যে তাহা হইলে আদালত দরখাস্তকারীকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবে এবং উহা মালিক বা মজুরি পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে প্রদান করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ৬০
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি