বিধি ৫৫ — কল্যাণ কর্মকর্তা
কল্যাণ কর্মকর্তা
(১) আইনের ধারা ৩৫(২)(ঞ) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে যেই সকল প্রতিষ্ঠানে ৫০০ (পাঁচশত) বা ততোধিক সংখ্যক শ্রমিক নিযুক্ত রহিয়াছেন সেই সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের সংখ্যা ২০০০ (দুই হাজার) এর অধিক হইলে প্রতি ২০০০ (দুই হাজার) এবং অতিরিক্ত ভগ্নাংশের জন্য একজন করিয়া অতিরিক্ত কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে হইবে।
(২) কল্যাণ কর্মকর্তার দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(ক) শ্রমিকের বিভিন্ন কমিটি ও যৌথ উৎপাদন কমিটি, সমবায় সমিতি ও ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠনকে উৎসাহিত ও কাজকর্ম তদারকি করা;
(খ) বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার (যথা- ক্যান্টিন, বিশ্রামাগার, শিশুকেন্দ্র, পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা, পানীয়-জল ইত্যাদি) প্রতি লক্ষ্য রাখা;
(গ) বেতনসহ ছুটি মঞ্জুরের বিষয়ে শ্রমিককে সহযোগিতা করা এবং যে কোনো ছুটি ও অন্যান্য বিধি-বিধানের বিষয়ে শ্রমিককে অবহিত করা;
(ঘ) গৃহ সংস্থান, খাদ্য, সমবায় সমিতিতে ন্যায্য মূল্যের যে কোনো প্রতিষ্ঠানে সামাজিক ও বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ ইত্যাদি শ্রম কল্যাণমূলক বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখা;
(ঙ) শ্রমিকের কাজের ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও তাহার কল্যাণের বিষয়ে সুপারিশ করা;
(চ) নবাগত শ্রমিকের প্রশিক্ষণ প্রদান, শ্রমিকের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও কারিগরি ইনস্টিটিউটে তাহাদের প্রশিক্ষণে যোগদানের উৎসাহ ও মনোনয়ন প্রদানে কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদান করা;
(ছ) প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধানের বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিককে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা;
(জ) শ্রমিকের চিকিৎসা সুবিধার জন্য কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল অফিসারের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করা;
(ঝ) শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ;
(ঞ) মজুরি ও চাকরির শর্তের বিষয়াবলি সম্পর্কে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির সহিত আলোচনা করা;
(ট) মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে মত বিরোধ উদ্ভূত হইলে উক্ত বিষয়ে আপোষ-মীমাংসার জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা;
(ঠ) শ্রমিকের বক্তব্য অনুধাবন করা এবং পারস্পরিক মত বিরোধ দূর করিবার জন্য মালিক ও শ্রমিককে সহায়তা করা;
(ড) শ্রমিকের একক বা সমষ্টিগত কোনো অনুযোগ থাকিলে উহা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করা; এবং
(ঢ) মালিক বা কারখানা ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রক্ষার জন্য সংযোগ স্থাপন ও আলোচনা ব্যবস্থা করা।
(৩) কল্যাণ কর্মকর্তার যোগ্যতা হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(ক) কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং শ্রম ও শিল্প সম্পর্কিত বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ; এবং
(খ) বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, শিল্প সম্পর্ক এবং অনুযোগ বা অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দক্ষতাসম্পন্ন।
(৪) কল্যাণ কর্মকর্তা নিযুক্ত হইবার অথবা তাহার চাকরি অবসান হইবার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে কারখানার বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা মালিককে উক্ত বিষয়ে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং চাকরির অবসানের ক্ষেত্রে শূন্য পদটিতে যথাশীঘ্র সম্ভব নিয়োগ করিতে হইবে।
(৫) মালিক বা কারখানা ব্যবস্থাপনা কল্যাণ কর্মকর্তাকে উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত দায়িত্বাবলি সম্পাদনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করিবে।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ৩৫
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি